পানির নিচে ঝর্ণা! – মরিশাস দ্বীপের ‘Underwater Waterfall’

 

‘প্রকৃতির রাজকন্যা’ হিসেবে মরিশাসের খ্যাতি আছে।

মরিশাস হল বিশ্বের তুলনায় তুলনামূলকভাবে একটি নতুন দ্বীপ, এবং প্রায় ৪ মিলিয়ন বছর আগে এটি গঠিত হয়েছিল (এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে, পৃথিবী নিজেই প্রায় ৫০০ গুণ প্রাচীন – প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর) লা রিউনিয়ন দ্বীপের মতো অন্যান্য দ্বীপের পাশাপাশি সমুদ্রের নীচে আগ্নেয়গিরির উৎপাতের ফলে এই দ্বীপের গঠনের কারণ ছিল । ভারত মহাসাগরে অবস্থিত, মরিশাস একটি সুন্দর দ্বীপ যা প্রতিবছর শত শত ব্রিটিশ পর্যটককে আকর্ষণ করে।

অত্যন্ত দুর্লভ কিছু জীববৈচিত্র্যের সন্ধান এখানে পাওয়া গেছে। কিন্তু একই সাথে এটা প্রকৃতির ‘স্পেশাল ইফেক্ট’ নিয়ে নানারকম গবেষণা করার একটা ক্ষেত্রও বটে। যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন সংযুক্ত ছবিতে। হ্যাঁ, এটা পানির নীচে একটা ঝর্ণাই বটে!

কিন্তু অতল জলরাশির নীচে ঝর্ণা হয় কী করে? পানির মাঝ দিয়ে পানি কীভাবে ঝর্ণার মত বয়ে চলে? 

YouTube video

আসলে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। প্রকৃতি এখানে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র  ফেলে দেওয়ার মত ভয়াবহ কোনো সিদ্ধান্তে যায়নি। বরং সে ‘স্পেশাল ইফেক্ট’ দিয়ে আমাদের চোখে ‘অপটিক্যাল ইলিউশন’ সৃষ্টি করেছে। ঝর্ণার মত যেটা বয়ে চলছে, সেটা হচ্ছে বালু। দ্বীপের এই অংশটাতে একটা বিশাল খাদ আছে পানির নীচে। সেই খাদের কিনারায় সমুদ্রের স্রোতের টানে আশেপাশের অঞ্চল হতে বালু এসে জমছে। পরে আবার সেই স্রোতই ধাক্কা মেরে সব বালুকে ঠেলে নীচে ফেলে দিচ্ছে। দেখতে মনে হচ্ছে, পানির নীচে পানির ঝর্ণার মত।

কুউনি.কম.উকের এক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃহত্তম বালুচর যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০ মিটারের নিচে গভীর নয়। উপকূল থেকে সমুদ্রের পানি আপনার দৃষ্টিকে জুড়াবে ঠিকই তবে এই নির্দিষ্ট ‘Underwater Waterfall’  দেখতে হলে আপনার হেলিকপ্টারের দরকার!

এই স্পেশাল ইফেক্ট গত কয়েক লাখ বছর ধরে চলছে। আরো বহুসময় ধরে এটা চলবে। অন্তত আশেপাশের অঞ্চলের সব বালুর সাপ্লাই ফুরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত!

এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন